ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতের মহাকাব্যিক যাত্রা
রাগত্ব ও ঠাট পদ্ধতি
ঠাটের কাঠামো
হিন্দুস্তানি সংগীতে রাগগুলোকে व्यवस्थित করার জন্য একটি পদ্ধতি প্রয়োজন ছিল। পণ্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখণ্ডে এই কাজটি করেন। তিনি অসংখ্য রাগের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে দশটি মূল স্বরবিন্যাসের অধীনে শ্রেণিবদ্ধ করেন। এই মূল কাঠামো বা স্কেলকেই ‘ঠাট’ বলা হয়।
প্রতিটি ঠাটে সবসময় সাতটি স্বর থাকে এবং সেগুলো আরোহী ক্রমে (স র গ ম প ধ ন) সাজানো থাকে। ঠাটের কোনো আবেগ বা রস নেই; এটি কেবল স্বরের একটি কাঠামো। ঠাট গাওয়া হয় না, বরং এটি থেকে রাগ সৃষ্টি হয়। ঠাটকে জনক বা পিতা হিসেবে ভাবা যেতে পারে, যা থেকে বিভিন্ন রাগের জন্ম হয়।
| ঠাটের নাম | স্বরবিন্যাস |
|---|---|
| বিলাবল | স র গ ম প ধ ন (সব শুদ্ধ) |
| কল্যাণ | স র গ ম तीव्र প ধ ন |
| খমাজ | স র গ ম প ধ ন komol |
| ভৈরব | স র komol গ ম প ধ komol ন |
| পূর্বী | স র komol গ ম तीव्र প ধ komol ন |
| মারওয়া | স র komol গ ম तीव्र প ধ ন |
| কাফি | স র গ komol ম প ধ ন komol |
| আসাবরী | স র গ komol ম প ধ komol ন komol |
| ভৈরবী | স র komol গ komol ম প ধ komol ন komol |
| তোড়ী | স র komol গ komol ম तीव्र প ধ komol ন |
রাগের নিজস্ব পরিচয়
ঠাট যদি কঙ্কাল হয়, তবে রাগ হলো তার উপর রক্ত-মাংস ও আত্মা। একটি রাগের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব থাকে, যা তাকে অন্য রাগ থেকে আলাদা করে। এই ব্যক্তিত্ব বা ‘রাগত্ব’ কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
একটি ঠাটের অধীনে অনেক রাগ থাকতে পারে। যেমন, কল্যাণ ঠাট থেকে যমন, ভূপালী, শুদ্ধ কল্যাণসহ অনেক রাগের জন্ম হয়। কিন্তু প্রত্যেকটির চলন, আবেগ এবং নিয়ম ভিন্ন। রাগের এই স্বাতন্ত্র্য তার জাতি, বাদী-সমবাদী স্বর এবং বিশেষ স্বরসংগতির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
আশ্রয় রাগ
noun
যে প্রধান রাগের নামে কোনো ঠাটের নামকরণ করা হয়, তাকে সেই ঠাটের আশ্রয় রাগ বা জনক রাগ বলা হয়। যেমন, ভৈরব ঠাটের আশ্রয় রাগ হলো রাগ ভৈরব।
একটি রাগের পরিচয় তার স্বরের সংখ্যার ওপরও নির্ভর করে। একে রাগের জাতি বলা হয়। আরোহ (ওপরে যাওয়া) এবং অবরোহ (নিচে নামা) উভয় ক্ষেত্রেই স্বরের সংখ্যা বিচার করে জাতি নির্ধারণ করা হয়।
| জাতি | আরোহ-অবরোহে স্বরের সংখ্যা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ঔড়ব | ৫টি স্বর | রাগ ভূপালী (স র গ প ধ ਸ) |
| ষাড়ব | ৬টি স্বর | রাগ মারবা (স ঋ গ ম तीव्र ধ ন ਸ) |
| সম্পূর্ণ | ৭টি স্বর | রাগ যমন (ন র গ ম तीव्र প ধ ন ਸ) |
কোনো রাগের আরোহে ৬টি এবং অবরোহে ৭টি স্বর থাকলে তার জাতিকে ‘ষাড়ব-সম্পূর্ণ’ বলা হয়। এভাবে মোট ৯টি সম্ভাব্য জাতি (ঔড়ব-ঔড়ব, ঔড়ব-ষাড়ব ইত্যাদি) তৈরি হতে পারে।
বাদী, সমবাদী এবং চলন
প্রতিটি রাগের দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বর থাকে। একটি হলো ‘বাদী’, যা রাগের রাজা। এই স্বরটি রাগে বারবার এবং সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়। বাদী স্বর রাগের মূল চরিত্র ও আবেগ নির্ধারণ করে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্বরটি হলো ‘সমবাদী’, যা রাগের মন্ত্রী। এটি বাদী স্বরের সাথে একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে (সাধারণত চতুর্থ বা পঞ্চম স্বর) থাকে এবং বাদীকে সমর্থন জোগায়। বাদী ও সমবাদী স্বর মিলে রাগের একটি সুন্দর কাঠামো তৈরি করে। বাকি স্বরগুলোকে ‘অনুবাদী’ বলা হয় এবং যে স্বরগুলো রাগে ব্যবহৃত হয় না, সেগুলোকে ‘বিবাদী’ বলা হয়।
একটি রাগের পরিচয় কেবল তার স্বর বা জাতি দিয়ে হয় না, বরং স্বরগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপরও নির্ভর করে। রাগের এই বিশেষ গতি বা চাল-চলনকে ‘চলন’ বলা হয়।
চলনের মধ্যেই রাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘পকড়’। এটি ২-৩টি স্বরের একটি ছোট গুচ্ছ, যা শুনলেই রাগটিকে চেনা যায়। এটি অনেকটা রাগের পরিচায়ক বা সিগনেচারের মতো।
সবশেষে, রাগের সময়তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্দিষ্ট রাগ নির্দিষ্ট সময়ে গাওয়া হয়, যেমন ভৈরব সকালে এবং যমন রাতে। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক এবং মানসিক কারণ রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পরিবর্তন হয়। নির্দিষ্ট স্বরসংগতি সেই সময়ের মানসিক অবস্থার সাথে অনুরণিত হয়, যা সংগীতের আবেদনকে আরও গভীর করে তোলে।
হিন্দুস্তানি সংগীতে রাগ শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য 'ঠাট' পদ্ধতির প্রবর্তক কে?
একটি ঠাটে সর্বদা সাতটি স্বর আরোহী ক্রমে (স র গ ম প ধ ন) সাজানো থাকে।
ঠাট এবং রাগের এই কাঠামো হিন্দুস্তানি সংগীতের ভিত্তি। প্রতিটি রাগের নিজস্ব নিয়ম ও সৌন্দর্যের অন্বেষণই এই সংগীতের মূল আনন্দ।